Posts

Showing posts from September, 2020

মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত ফিলিস্তিনি কবি আশরাফ ফায়াদের কবিতা

১ দারিদ্রের নিদর্শন রেখে যাওয়া ছাড়া খনিজ তেল তেমন কোনো ক্ষতি করে না সেইদিন, যখন আর একটি তেলকূপ খুঁজে পেয়ে আঁধারে তাদের মুখ আচ্ছন্ন হয়েছিল, যখন জীবন আপনার হৃদপিন্ডকে ক্লান্ত কোরে তুলেছিলো, আপনার আত্মা হতে আরো বেশি তেল টেনে বের করার লক্ষ্যে, জনগণের কল্যাণে... সেটাই হলো তেলের প্রতিশ্রুতি, একটি প্রকৃত প্রতিশ্রুতি। এবং শেষ। ২ বলা হয়েছিলো: বসতি স্থাপন করুন কিন্তু আপনাদের মধ্যে কেউ কেউ আছেন যারা সকলের জন্য ক্ষতিকর সুতরাং এটা স্থগিত থাক নদীর গভীর হতে নিজেদের দিকে তাকিয়ে দেখুন যারা উপরে অবস্থান করছেন, তাদের উচিৎ কিছু করুণা প্রদর্শন করা নিচে অবস্থানকারীদের প্রতি গৃহচ্যুত মানুষেরা অসহায় এতটাই যে, তেলের বাজারে এদের রক্তের কোনো মূল্য নেই! ৩ ক্ষমা করো, ক্ষমা করো আমাকে তোমার জন্য আরো বেশি কান্না প্রকাশ না করতে পারার কারণে এবং স্মৃতিকাতরতার মধ্যে অস্ফুটস্বরেও আমি উচ্চারণ করতে পারিনি তোমার নাম অথচ আমি প্রতীক্ষা কোরে ছিলাম তোমার আলিঙ্গনের উষ্ণতার জন্য তুমি ছাড়া আমার কোনো ভালোবাসা নেই, একমাত্র তুমি, আর আমিই সে— তোমার প্রথম অনুসন্ধানকারী ৪ রাত্রি, সময়ের বিষয়ে তুমি অভিজ্ঞ নও আর সেই বৃষ্টিরও অভাব যা মুছে দি...

২১

  ইতিহাস ফেলে আসা আমি সেই নতমুখ, পকেটে ২১টি গোলাপের লাশ; কাঁধে ধর্ম আমার, পিঠে লেগে আছে অপবাদ। আমি সেই সুচতুর যৌবন, হাতে শর্টগান। আমি সেই মাটির শরীর, মিছিলে সমবেত জনতার আকুতি; চোখে তীব্রতা-বুকে ঘোলাটে মিথ্যের ক্ষত। আমি-ই সেই প্রত্যাখান; আমাকে আর কত বেদনার রঙ দ্যাখাবে! একদিন গৃহহীন পাখিরা যদি নীড়ে ফিরে আসে, একদিন খরস্রোতা নদীগুলো যদি নেমে আসে- প্লাবনের লোভে; আমি সেই বিরাগী বাউল, চোখে বিস্ময়। রাত- আহারে জোস্নার রাত, বেদনার দীর্ঘ রাত্রি শেষ হলো। দুঃখ- আহা শৈল্পিক দুঃখ, বিনাশের ধ্বংসযজ্ঞ শেষ হলো; আমাদের দ্যাখা হলোনা। কাঁটাতার বেড়ীতে আমিই সেই দুর্বিনত হাত, কাঁধে বেওয়ারিশ লাশ-শবের মিছিল। আমি সেই অগ্নুৎপাত আমি-ই অভ্যুথ্বান আমি সেই ফেরারি; চেতনায় বেসামরিক হুঃকার- বুলেট কিংবা কবিতা। আমি-ই মহাকালের প্রত্যাখান, আমাকে আর কত মিথ্যে শেখাবে! একদিন ভালোবাসা যদি অনশন ভেঙ্গে ফেলে, যদি প্রেম ফিরে আসে চুপচাপ; আমি সেই নীরবতা- আমাকে গ্রহন করো।